বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৯ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদায়ী সংবর্ধনা  চাঁপাইনবাবগঞ্জে “যমুনা টেলিভিশনের” প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফ্রিল্যান্সিং (৬ষ্ঠ) ব্যাচের ক্লাস উদ্বোধন চাঁপাইনবাবগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে বিএসটিআই কর্মকর্তারা শিবগঞ্জে জ্বালানি মজুদের দায়ে এক পাম্পে অভিযান চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফ্রিল্যান্সিং ৬ষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে জোরপূর্বক জমি দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মানববন্ধন শাহ্ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের আয়োজনে ইফতার মাহফিল ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে?

হত্যার ছক আঁকা হয় ১৯৯৮ সালে, কার্যকর ২৬ বছর পর!

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৫
হত্যার ছক আঁকা হয় ১৯৯৮ সালে, কার্যকর ২৬ বছর পর!

এক্সপ্রেস নিউজ ডেস্ক : ভারতের কলকাতায় সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার খুন হয়েছেন ১০ মাস পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছে তিনবার। আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়ও পিছিয়েছে কয়েক দফা। এখন ভারতীয় পুলিশের ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য আটকে গেছে আজীম হত্যাকাণ্ডের তদন্ত।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজীমকে হত্যার প্রথম সিদ্ধান্ত হয় ১৯৯৮ সালে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় অধিবেশনে। সেখানে আজীমকে মাদক কারবার, স্বর্ণ চোরাকারবার, জমি দখলের অভিযোগ তুলে ‘ঘৃণিত ও অত্যাচারী’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়। ২৬ বছর পর ২০২৪ সালে এসে আজীমকে হত্যার মিশন বাস্তবায়ন করে পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি।

তদন্ত কর্মকর্তারা আরও বলছেন, আজীম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিন। ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে শাহিন তাঁকে টার্গেট করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বহারা পার্টিকে ব্যবহার করেন তিনি। শাহিনের কথা মতো মাদক, স্বর্ণ ও অস্ত্র চোরাকারবারির টিকিট ছাপাতে ভারতে যান আজীম। কলকাতার নিউ টাউনের ওই বাসাও ভাড়া করেন শাহিন। বাসা ভাড়ার চুক্তিপত্রে সেলেস্তি রহমানকে তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দেখানো হয়। এ ছাড়া হত্যা মিশনে সরাসরি অংশ নেওয়া প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াসহ ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা উঠে এসেছে।

গত  ১৩ মে ভারতে খুন হন এমপি আজীম। এর পর ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় জিডি করেন তাঁর বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। ১৯ মে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় নিখোঁজের জিডি করেন আজীমের ছোট মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে এসে অভিযোগ দেন তিনি। এর পর এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। পরে গত ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন আজীমের মেয়ে ডরিন। এখন পর্যন্ত দুই দেশের পুলিশ অভিযুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তার মধ্যে ছয় আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই সময় ভারতের সিআইডি দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

গত ৬ মার্চ আজীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেছায়। নতুন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ২১ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন এম এ আজহারুল ইসলামের আদালত। এ মামলায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তারা হলেন– সৈয়দ আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, ফয়সাল আলী সাজী ওরফে তানভীর ভূঁইয়া, সেলেস্তি রহমান, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  সাইদুল করিম মিন্টু, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহমেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান ও ফয়সাল আলী। তাদের মধ্যে মিন্টু ছাড়া ছয়জনই দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন সব আসামি কারাগারে। এদিকে হত্যার পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহিন পলাতক রয়েছেন।
এমপি আজীম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ওয়ারী বিভাগের পরিদর্শক বাহলুল খান বাহার সমকালকে বলেন, ভারতীয় পুলিশের কাছে ডিএনএ প্রতিবেদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ডিএনএ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

হত্যা মিশনে শিমুল ভূঁইয়ার ভূমিকা

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শিমুল ভূইয়া জানান, পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৯৮ সালে দলের কেন্দ্রীয় অধিবেশনে আজীমকে একজন ‘ঘৃণিত ও অত্যাচারী’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। এর পর দলের ঝিনাইদহ শাখাকে তাঁকে হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু শাখা সেই কাজ করতে ব্যর্থ হয়। ২০১৪ সালে এমপি হওয়ায় হত্যার সিদ্ধান্ত থেকে তারা সরে আসে। শিমুল ও শাহিন দুই মেরুর হলেও আজীমকে হত্যায় সমন্বয় চলতে থাকে। শাহিনের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থাকলেও, ব্যক্তিগত পর্যায়ে তাদের (আজীম ও শাহিন) ভালো সম্পর্ক ছিল। এর মধ্যে ২০২৩ সালের নভেম্বরে পরিকল্পনা হয়, সময় ও সুযোগ পেলেই হত্যা করা হবে। এর পর কলকাতার নিউ টাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনে বাসা ভাড়া নেওয়া হয়। শাহিনের কথা মতো সেলেস্তিসহ তিনজন ৩০ এপ্রিল কলকাতায় যান।

সঞ্জীবায় গিয়ে অবস্থান করার সময় শাহিন ৫ থেকে ৬ মে মোবাইল ফোনে টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহিনকে জিজ্ঞেস করলে জানান, আজীমকে হত্যার জন্য ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম মিন্টু ২ কোটি টাকা দেবেন। তার মধ্য ২০ লাখ টাকা দেশে গেলে পাওয়া যাবে। বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা ২৬ থেকে ৩১ মের মধ্যে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়া মিন্টু এলএম পার্টির জন্য সব সময় আর্থিক সহায়তা দেবেন। প্রথম কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য গ্যাস বাবুকে আজীমের ছবি পাঠাতে হবে। ছবিটি দেখার পর টাকা পৌঁছাবে নির্দিষ্ট ঠিকানায়। ফয়সাল, মুস্তাফিজ ও জিহাদ পার্টির কর্মী। জিহাদ আগে থেকেই কলকাতায় আছে। সঞ্জীবা গার্ডেনে দু’দিন থাকার পর পরিস্থিতি দেখে এখানে কাজ করা সম্ভব নয় জানালে বাসার সিসি ক্যামেরা নষ্ট বলে জানান শাহিন। পরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া জিহাদ, ফয়সাল ও মুস্তাফিজ বাসায় আসে। সিয়ামকে দিয়ে সব সরঞ্জাম কিনে বাসায় নিয়ে আসেন শাহিন।

চাঁপাইএক্সপ্রেস/এআকে

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও সংবাদ
স্বত্ব ©2022-2026 চাঁপাই এক্সপ্রেস
Design By Raytahost
raytahost14